ঢাকা | ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

ওয়াশিংটন-অটোয়া বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ: মার্কিন শুল্ক প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য’ বললেন মার্ক কার্নি

প্রকাশের তারিখ: অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: হোয়াইট হাউস থেকে অটোয়ার অটোয়া নদী উপকূল—দুই প্রতিবেশী দেশের টানাপোড়েনে এখন বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা। কূটনীতিক আর বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের টানা আলোচনার পর সমঝোতা না হওয়া কেবল শুল্কনীতি পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় না; বরং দুই দেশের সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত তুলে ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং কানাডার অটোয়ার মধ্যকার শুল্ক সংক্রান্ত বাণিজ্যিক আলোচনা কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেস্তে গেছে। এরপরই মার্কিন প্রস্তাবকে ‘অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক’ ও ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। একইসঙ্গে মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে কানাডাও শিগগিরই পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব নতুন শর্ত প্রস্তাব করেছে তা পুরোপুরি ‘অনৈতিক’ ও ‘অন্যায্য’, যা কানাডার সার্বিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু করেছেন অভিযোগ তুলে কার্নি বলেন, ‘যখন আপনার ওপর হামলা চালানো হবে, তার মানে আপনি যুদ্ধে আছেন। আমরা হামলার শিকার হয়েছি।’

বাণিজ্যিক মধ্যস্থতার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ওয়াশিংটন যা প্রস্তাব করেছে তারা তা মেনে নিতে পারছেন না, আবার যুক্তরাষ্ট্র যা চেয়েছে তাও দেওয়া সম্ভব নয়।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যস্থতা ভেস্তে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কনীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই নীতির ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রফতানির ৫.৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব পড়বে হকি স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্ট শিল্পের ওপর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন কার্নির সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একটি বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শর্তগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দেন।

কানাডিয়ান শ্রমিক, কৃষক, পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ডলার বিনিময়ে ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কানাডার স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

কানাডার এই পাল্টা শুল্কনীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল এবং ডেইরি বা দুগ্ধ শিল্পকে লক্ষ্য করে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী সপ্তাহে আরও বিস্তারিত জানানোর কথা বলেছেন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল ও কাঠ পণ্যে শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে তার বিনিময়ে কানাডার কাছ থেকেও নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ছাড় চাওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গাড়ি, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর থেকেই তা থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল কানাডা। এই শুল্কের কারণে তাদের অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে, বহু মানুষ চাকরি হারিয়েছে এবং দুই দেশের বহুবছরের মজবুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, কানাডা তাদের মদ, গাড়ি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর পক্ষপাতমূলক আচরণ করায় তারাও শুল্ক বসাতে বাধ্য হয়েছে।

কমেন্ট বক্স