বাংলার প্রতিচ্ছবি: সচিবালয়ের করিডোরজুড়ে পুষ্পস্তবকের সম্ভাষণ, নতুন কর্মদিবসের ব্যস্ততা আর দফতর প্রধানদের সুগম্ভীর উপস্থিতি। দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির নতুন প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করলেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতর-সংস্থার প্রধানদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
পরিচিতি সভা শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও সরকারের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং সরকার কী কাজ করছে, তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের একটি নৈতিক দায়িত্ব।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করবো, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারও প্রতি কোনো অন্যায় বা অবিচার না হয়।’
পরিচিতিমূলক সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং অধীনস্থ বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।