বাংলার প্রতিচ্ছবি. সৌরভ চ্যাটার্জী (খুলনা প্রতিনিধি) খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, নতুন রাস্তা থেকে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কে সম্প্রতি ইজিবাইকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে অন্তত তিনজন এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে একই কায়দায় এসব ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁকা ইজিবাইকে একা যাত্রী উঠলেই হঠাৎ করে একই দলের তিনজন নারী অথবা তিনজন পুরুষ যাত্রী সেজে উঠে পড়ে। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা যাত্রীর মুখের সামনে রুমালে মোড়ানো এক ধরনের অচেতনকারী বা শ্বাসের সঙ্গে প্রভাব ফেলে এমন পদার্থ ধরে দেয়। এতে অনেকেই মুহূর্তের মধ্যে অসুস্থ, দুর্বল, বিভ্রান্ত বা অসাড় হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে যাত্রীর সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হচ্ছে এবং এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্যই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক সময় অভিযুক্তরা মুখ ঢেকে চলাফেরা করে, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। এমনকি কিছু ইজিবাইক চালকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, অজ্ঞাত আরও অনেক মানুষ একই কায়দার অপরাধের শিকার হয়েছেন; তবে ভয়, লজ্জা কিংবা ঝামেলার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করছেন না। ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী বলছেন, ব্যস্ত নগরীতে এ ধরনের ধারাবাহিক অপরাধ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও একা চলাচলকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এ সড়কে যাত্রীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায়।
সচেতন নাগরিকরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণ, সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের একা ফাঁকা ইজিবাইক বা সিএনজিতে না ওঠা, অপরিচিত যাত্রীদের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।