ঢাকা | ১১ মে ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

ইরানের পাল্টা প্রস্তাব ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ: মে ১১, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান যে জবাব দিয়েছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ইরান তাদের পাল্টা প্রস্তাব পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবে যা ছিল: ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে লেবাননসহ সব এলাকায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, পুনরায় আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব: ইরানের এই প্রস্তাব পাওয়ার পরপরই ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেন, “আমি এটা পছন্দ করি না – সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” তবে কী কারণে তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাল্টা বার্তায় জানিয়েছেন, ইরান কখনোই শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং শক্তি দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

জ্বালানি বাজার ও মার্কিন রাজনীতিতে অস্থিরতা: ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সোমবার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলার বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য এবং যুদ্ধের প্রতি জনঅসন্তোষ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন ওয়াশিংটন নতুন কোনো কূটনৈতিক পথ খুঁজবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কমেন্ট বক্স