ঢাকা | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর পর এবার কয়লা সংকটে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ: এপ্রিল ৮, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি:  কয়লার অভাবে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার সংকটে পড়েছে দেশের আরেক মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। গত কয়েক দিন ধরেই কক্সবাজারের এই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও বুধবার (০৮ এপ্রিল) কেন্দ্রটি মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াটে উৎপাদন সীমিত রেখেছে। কয়লার পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকেই বন্ধ রয়েছে। আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, জটিলতা কেটে যাওয়ায় আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে গ্রীষ্মকাল আসায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকা বা উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া গ্রাহক পর্যায়ে চরম অস্বস্তি তৈরি করছে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অভাব ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই সময়ে একই দেশের রামপাল, পায়রা বা চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট যখন পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে, তখন মাতারবাড়ি বা পটুয়াখালীর মতো কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া পরিচালনাগত দক্ষতার অভাবকেই নির্দেশ করে। মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে অধিকাংশ কয়লা আমদানি করা হলেও দেশটি বর্তমানে স্পট মার্কেটে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। যাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নেই, তারা এখন বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি আগে থেকে অনুমান করে যারা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, তারা সংকটে না পড়লেও বাকিদের অবহেলার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।

এদিকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা বাদে দেশের প্রায় সব জায়গা থেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। এমনকি ভারত থেকে আসা আদানি পাওয়ারও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। তাপমাত্রা যত বাড়ছে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় মাতারবাড়ি ও পটুয়াখালীর মতো বড় কেন্দ্রগুলোর সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব না হলে সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সমাধান বা আশার বাণী পাওয়া যায়নি।

কমেন্ট বক্স