বাংলার প্রতিচ্ছবি : রংপুর ও ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দুই জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। সরজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের মেশিনগুলো অলস পড়ে আছে। কোথাও ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ, আবার কোথাও প্রবেশপথে দড়ি দিয়ে আড়াআড়ি বাধা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে কেবল সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। যে দু-একটি পাম্পে তেল মিলছে, সেখানে যানবাহনের কয়েক মাইল দীর্ঘ সারি আর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে চালকদের ভোগান্তি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রংপুর মহানগরীর অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশনের মধ্যে শনিবার হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সব বন্ধ ছিল। চালকদের অভিযোগ, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেলের খোঁজে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরতে ঘুরতে অবশিষ্ট তেলও শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেক মোটরসাইকেল মাঝরাস্তায় অচল হয়ে পড়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল রেশনিং পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। একেকটি পাম্পে দৈনিক চার হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। ফলে তেল ছাড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং দিনের বাকি সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে ট্যাংক-লরি পাঠানো হলেও সেগুলো সময়মতো না পৌঁছানোয় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
রংপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে চরম সমন্বয়হীনতা চলছে। আগে কোন স্টেশনে কখন তেল দেওয়া হবে তা জানানো হলেও এখন আর কোনো পূর্বঘোষণা থাকছে না। এদিকে ময়মনসিংহের চিত্রও প্রায় একই। নগরের মাসকান্দা ও শিকারিকান্দা এলাকার বড় বড় ফিলিং স্টেশনগুলো তেলশূন্যতার কারণে তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শহরের দু-একটি পাম্পে তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে হাজারো মোটরসাইকেল চালক হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। লাইনের ভিড় সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন তেলের বড় কোনো সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তব চিত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।