ঢাকা | ২৬ জুন ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

সংস্কার ও অব্যবস্থাপনার কারণে বসবাসের অযোগ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরি

প্রকাশের তারিখ: মে ১৪, ২০২৫ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : সংস্কারের অভাবে বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডরমেটরি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর শিক্ষকরা এখানে বসবাস করে। বসবাসের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষকরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ডরমেটরিটি  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষক ডরমেটরিটি একসময় অপরাজিতা হলের অংশ ছিল। বেশ কয়েক বছর পরিত্যক্ত থাকার পর ২০২০ সালে ব্যাচেলর শিক্ষকদের বাসস্থানের জন্য এটিকে ডরমেটরিতে রূপান্তর করা হলেও প্রথম থেকেই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
 
সরেজমিনে ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ধরেছে ফাটল, দেয়ালে জন্মেছে লতা পাতা, অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ভবনটির যোগাযোগের রাস্তা। পরিষ্কার না করায় ভবনের সামনেই বন জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। এই কারণে সাপসহ অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব রয়েছে অনেক বেশি। এর মধ্যে একটি ভবনের মেইন গেট বহুদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ডরমেটরিতে কোন নিরাপত্তা রক্ষী না থাকাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পায় না শিক্ষকরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডরমেটরিটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই মর্মে ডরমেটরিটি এক মাসের মধ্যে ফাঁকা করতে শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়। শিক্ষকরা তাদের বাসস্থানের অন্যত্র কোন ব্যবস্থা না করা হলে ডরমেটরি ফাঁকা করতে রাজি হয়নি। ডরমেটরিতে দুইটি ভবন রয়েছে যার একটি ভবন পুরুষ শিক্ষকদের জন্য অন্যটি নারী শিক্ষকদের জন্য। সেখানে বর্তমানে ১২ জন পুরুষ শিক্ষক এবং ৬ জন নারী শিক্ষক রয়েছে।

এই বিষয়ে ডরমিটরিতে বাস করা চারু ও কারুকলা ডিসিপ্লিনের শিক্ষিকা শাপলা সিংহ বলেন, সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় শিক্ষকদের। অল্প বৃষ্টিতে চলাচলের রাস্তায় পানি উঠে যায়, খাবার পানির কোন ব্যবস্থা নেই। কোন কেয়ারটেকার না থাকায় রাতে গেট লাগানো থেকে শুরু করে মোটর দিয়ে পানি তোলা সব আমাদেরই করতে হয়। বাসার দেয়াল ও সিলিং থেকে প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানালে হলেও তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্টার এস এম মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রধান প্রকৌশলী ডরমেটরি তে থাকা শিক্ষকদের সাথে ডরমেটরির সংস্কারের ব্যাপারে যোগাযোগ করেন। ডরমেটরির সংস্কারের কাজ করার সময় তাদের ডরমেটরিটি খালি করে দিতে বলা হলে, শিক্ষকরা দাবি করেন, যতদিন ধরে ডরমেটরির কাজ চলবে ততদিন তাদের অন্যত্র থাকার সকল ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করে দিতে হবে। এখন তারা অন্যত্র থাকলে সেই ঘরভাড়া কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে? তাই সংস্কারের কাজ আর আগায়নি। তারা আমাকে ডরমেটরি দুটি খালি করে দিক আমি সংস্কার করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
কমেন্ট বক্স