বাংলার প্রতিচ্ছবি: ঈদের ছুটি কিংবা জীবিকার প্রয়োজনে শহর থেকে গ্রামে ফেরা পথগুলো যেন প্রতিনিয়ত রূপ নিচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে নিয়ন্ত্রণহীন বাসের ধাক্কায় একলহমায় নিভে গেল চারজনের প্রাণ। ভোররাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তেই স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠল রংপুরের মিঠাপুকুর।
রংপুরের মিঠাপুকুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ বাজারে শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক। তাঁরা হলেন—কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মোজাফফর রহমান, গোলাপী বেগম ও আলমগীর হোসেন। তাঁরা সবাই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। নিহত অপর ব্যক্তি হলেন বাসসহকারী আপেল।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধারকাজ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিবোঝাই ডাম্প ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্দার আব্দুল জলিল জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১৪ জনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।