ঢাকা | ১০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

কালিগঞ্জে ১০০ MW এগ্রোভোল্টাইক সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন

রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড এর একটি প্রজেক্ট

প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি. বিশেষ প্রতিনিধি:  উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় গ্রিডে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি যুক্ত করার লক্ষ্যে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে 'রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড' (RSPPL)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নে ৩৫০ একর জমিতে ১০০ মেগাওয়াট (MW) ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক 'এগ্রোভোল্টাইক সোলার পাওয়ার প্লান্ট' স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পটির জমি নির্বাচন, চুক্তি সম্পাদন ও প্রকল্প এলাকার সরেজমিন পরিদর্শনের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানটিতে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং প্রাথমিক কাজের জন্য বিভিন্ন কোম্পানীর  সাথে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।

কৃষি ও সৌরবিদ্যুতের অনন্য সমন্বয়: এগ্রোভোল্টাইক প্রযুক্তি: ঐতিহ্যগত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব 'এগ্রোভোল্টাইক' (Agrivoltaic) প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড। এই প্রযুক্তির ফলে জমি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সোলার প্যানেলের নিচে এবং মধ্যবর্তী স্থানে একই সাথে আধুনিক কৃষিকাজ ও পশুপালন পরিচালিত হবে। এর ফলে এলাকার কৃষিজমির স্বাভাবিক ব্যবহার এবং উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে, প্রকল্পের জমির মালিকরাই প্যানেলের নিচের অংশে চাষাবাদ অব্যাহত রাখবেন এবং উৎপাদিত শস্যের সুরক্ষায় কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

কুড়িগ্রাম ও রংপুরে প্রসারিত হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান: শুধুমাত্র লালমনিরহাটেই থেমে থাকছে না এই বৃহৎ উদ্যোগ। উত্তরবঙ্গের জ্বালানি সংকট নিরসন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড তাদের পরিধি আরও বিস্তৃত করছে।
  •  রংপুর (গঙ্গাচড়া): গঙ্গাচড়া এলাকায় জমি পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে এবং স্থান নির্ধারণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
  •  কুড়িগ্রাম (চিলমারী ও কুড়িগ্রাম সদর): কুড়িগ্রামের চিলমারী এবং সদর উপজেলার আশপাশে একাধিক উপযুক্ত জমি নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো:ইমরান আলি বলেন, "উত্তরবঙ্গ দীর্ঘকাল ধরে শিল্পায়ন ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, বিদেশী অর্থায়নের মাধ্যমে স্থাপিত লালমনিরহাটের ১০০ মেগাওয়াট এগ্রোভোল্টাইক সোলার প্রকল্প আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ। এই প্রকল্পের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য হলো—জমির মালিকরাই সোলার প্যানেলের নিচে নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করবেন এবং শস্য উৎপাদনে আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা দেব। পাশাপাশি, জমিদাতা পরিবারের যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। লালমনিরহাটের এই অংশীদারমূলক সাফল্য অনুসরণ করে রংপুর ও কুড়িগ্রামেও আমরা দ্রুত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।"
 
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হিল্লোল বাউলিয়া বলেন, "আমরা কারিগরি ও কৌশলগত সব দিক বিবেচনা করেই লালমনিরহাটের ভোটমারীতে ৩৫০ একর জমি নির্বাচন ও চুক্তি চূড়ান্ত করেছি। আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট: জমিদাতাদের স্বার্থ সর্বাগ্রে সংরক্ষিত থাকবে। সোলার প্যানেলের নিচের জমিতে আমাদের তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় জমিদাততারাই চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এছাড়া, প্রকল্পের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় জমিদাতাদের মধ্য থেকেই যোগ্য প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আমরা একাধিকবার সরেজমিনে সাইট পরিদর্শন করেছি এবং সকল কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"



প্রকল্পটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভোটমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ হোসেন বলেন, "রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড-এর প্রতিনিধি দল আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকবার পরিদর্শন ও বৈঠক করেছেন। এই মেগা প্রকল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো জমির মালিকরা তাদের মালিকানা হারানোর ভয় তো নেই-ই, বরং তারা নিজ জমিতেই সোলার প্যানেলের নিচে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং কোম্পানি থেকে শস্য উৎপাদনে সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন। এছাড়া আমাদের এলাকার শিক্ষিত ও যোগ্য যুবকদের বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ১০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এগ্রোভোল্টাইক প্রজেক্ট আমাদের এলাকার চিত্র বদলে দেবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির অভূতপূর্ব উন্নতি হবে এবং স্থানীয় তরুণেরা স্বাবলম্বী হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছি।"

উত্তরবঙ্গের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার: বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামে রংপুরের এই মেগা সোলার প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সাথে স্থানীয় জনমানুষের কর্মসংস্থান ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড (rsppltd.com) এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
কমেন্ট বক্স