বাংলার প্রতিচ্ছবি: রাঙামাটিতে গত ৪৮ ঘণ্টায় আর তেমন ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারের পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার ক্ষত ও ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। তবে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির প্রধান সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারছে না, যার ফলে স্থানীয় বাজারে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির বর্তমান পরিস্থিতি: বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করলেও সেখানকার জীবনযাত্রা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঘরে ফেরা মানুষগুলো বর্তমানে তীব্র খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্যের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক এলাকায় এখনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া পশ্চিম লাইল্যাঁঘোনা ইউনিয়নে এখনো অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের পানি পুরোপুরি নেমে গেছে। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এখন ঘরবাড়ি এবং ফারুয়া বাজারের দোকানপাটের কাদামাটি ও আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফারুয়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন জানান, পুরো বাজার ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে প্রায় আড়াই ফুট পলিমাটির নিচে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এই পলি অপসারণ করে স্থবির হয়ে পড়া জীবনযাত্রা সচল করার চেষ্টা চলছে, তবে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
নতুন এলাকা প্লাবিত ও প্রশাসনের তৎপরতা: জেলায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে বরকল উপজেলার ঠেগা, খুব্বাং, চুমাচুমি, লংগদু ও রাজস্থলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে পাহাড়ি ঢলে নতুন করে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গম এসব বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখনো যারা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে তিন বেলা খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া টানা বর্ষণের জেরে এ পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার মোট ১৩১টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।