ঢাকা | ০৭ মে ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ

প্রকাশের তারিখ: মে ৭, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা এবং ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তার কারণে দেশের মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে সরকারি সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে ব্যাংকে আমানত রাখা বা উত্তোলনে ভোগান্তি ও খেলাপি ঋণের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ এখন আস্থার প্রতীক হিসেবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের বিভিন্ন স্কিমকে বেছে নিচ্ছেন। নিরাপদ মূলধন ও ব্যাংকের তুলনায় বেশি মুনাফার নিশ্চয়তা থাকায় এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণসমূহ: বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র—এই চার ধরনের স্কিম চালু রয়েছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রধান আকর্ষণ হলো সরকারের সরাসরি দায়বদ্ধতা, যা মূলধন হারানোর ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনে। যেখানে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে, সেখানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা ১১ থেকে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাচ্ছেন। বিশেষ করে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৯৮ শতাংশ মুনাফা মিলছে, যা বর্তমান বাজারে সর্বোচ্চ।

মূল্যস্ফীতি ও নিয়মিত আয়ের সুবিধা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই উচ্চমূল্যের বাজারে দৈনন্দিন খরচ সামলাতে মধ্যবিত্তরা সঞ্চয়পত্রের নিয়মিত মুনাফার ওপর নির্ভর করছেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে মাসিক এবং অন্যগুলোতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুনাফা তোলার সুযোগ থাকায় এটি নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করছে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিশেষ সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো উৎসে কর দিতে হয় না, তবে এর বেশি হলে ১০ শতাংশ কর প্রযোজ্য। জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে সহজেই এই সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যায়।

নিট বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব: সঞ্চয়পত্রের চাহিদা বাড়লেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে নিট বিক্রিতে ভাটা দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নিট বিক্রি ঋণাত্মক ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিক্রির চেয়ে মেয়াদপূর্তি ও সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর পরিমাণ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে অনেক পরিবার তাদের আগের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খরচ মেটাতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক নিট বিক্রির ওপর। তবে সংকটের এই সময়েও সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় আস্থার নাম হিসেবে টিকে আছে সরকারি সঞ্চয়পত্র।

কমেন্ট বক্স