বাংলার প্রতিচ্ছবি: দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কিট সংকটে পড়েছে একমাত্র হাম শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। বর্তমানে ল্যাবে মাত্র ১৩টি কিট অবশিষ্ট আছে, যা দিয়ে বড়জোর দেড় হাজার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু-চার দিনের মধ্যে নতুন চালান না এলে ব্যাহত হতে পারে শনাক্তকরণ কার্যক্রম।
প্রতিটি কিটের মাধ্যমে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি নমুনা ল্যাবে আসছে। সেই হিসাবে অবশিষ্ট কিট দিয়ে আর মাত্র ৫ থেকে ৬ দিন পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। এর আগে জানুয়ারি মাসে ল্যাবে ১২৭টি কিট ছিল, যার মধ্যে ১১টি কিট ব্যবহার করে ১০ হাজার ৫৯৭টি নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ল্যাবে দৈনিক ৬ শতাধিক নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও কিট স্বল্পতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে নমুনার ফল পেতে ৪ থেকে ৭ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার ফল আরও দ্রুত পাওয়া জরুরি বলে তারা মনে করেন। কিট সংকটের কারণে এই দীর্ঘসূত্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোমিনুর রহমান দ্রুত সংকট কাটার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে ৩০টি কিট পাওয়ার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ১০০ কিট আসবে। কিটগুলো মজুত করে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, হামের কিটের মেয়াদ মাত্র ৬ মাসের মতো থাকে এবং বিদেশ থেকে সরবরাহ হয়ে আসতেও এক মাস সময় লেগে যায়। ফলে কিটগুলো খুব বেশি সংগ্রহ করে রাখা সম্ভব হয় না।
বর্তমানে হামের যে পরিস্থিতি দেশে বিরাজ করছে, তাতে নতুন চালান সময়মতো না পৌঁছালে মাঠ পর্যায়ে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।