ঢাকা | ০২ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটের শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশের তারিখ: Jul ২, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি :প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পর ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে সরবরাহকৃত খাদ্যের মান যাচাই এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত টিফিন হিসেবে সেদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১১ জন শিক্ষার্থী তীব্র পেটব্যথা, বমিভাব ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা পাঁচরাস্তা এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— রুমানা, আব্দুন নূর, রাবেয়া, ফারিয়া, মিতু, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।

গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল কায়সার জানান, শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং অধিকাংশই আশঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অসন্তোষ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, নিম্নমানের বা সংরক্ষণে ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত শনিবার ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পরে রবিবার সেই ডিম বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার ধারণা, রবিবারের ডিম বুধবার রান্না করার সময় কোনো একটি বা কয়েকটি ডিম নষ্ট হয়ে থাকতে পারে, যার কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রবিবার সরবরাহ করা ডিম থেকেই বুধবার টিফিন প্রস্তুত করা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, ওই ডিমগুলোর মধ্যে কিছু নষ্ট থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। সরকারি কাজে বাগেরহাটে অবস্থান করায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তারা এখন অনেকটাই সুস্থ।
কমেন্ট বক্স