ঢাকা | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

২০০ টাকা ভাড়া বাড়াল লঞ্চ মালিকরা

প্রকাশের তারিখ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি:- দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে সরকারি সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিকরা। বিশেষ করে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন ৪২ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-কে চিঠি দিলেও সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এর আগেই বর্ধিত ভাড়া আদায় করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বরিশাল নদীবন্দর ও লঞ্চ মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, তেলের দাম বাড়ার আগে ডেকের ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, যা এখন ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২০০ এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার টাকার স্থলে ২ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। ভিআইপি ও ফ্যামিলি কেবিনের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। লঞ্চ মালিকরা দাবি করছেন, তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়ায় এবং খুচরা যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের পরিচালনা ব্যয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সুরভী লঞ্চের মালিক রেজিন উল কবির জানান, বর্তমানে যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা আগের নির্ধারিত সরকারি ভাড়ার সীমার মধ্যেই আছে এবং নতুন সিদ্ধান্ত এলে ভাড়া আরও বাড়বে।

জ্বালানি তেলের নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম গত রবিবার থেকে কার্যকর হওয়ার পর থেকেই পরিবহণ খাতে অস্থিরতা শুরু হয়। লঞ্চ মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ভাড়া বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা এবং এর অধিক দূরত্বের জন্য ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে ঢাকা-বরিশাল রুটে ভাড়া বাড়লেও চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নৌপথে এখনও আগের ভাড়ায় লঞ্চ চলাচল করছে। চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক বাবুলাল বৈদ্য জানিয়েছেন, সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতিও জানিয়েছে, যাত্রী সংকটের কারণে তারা এখনও ভাড়া বাড়ানোর সাহস পাননি। যাত্রী ও সচেতন মহল মনে করছেন, তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে লঞ্চ ভাড়া বাড়লে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে মালিকপক্ষের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চের বর্তমান চিত্র:

শ্রেণির নামপূর্বের ভাড়াবর্তমান ভাড়া (অননুমোদিত)বৃদ্ধির পরিমাণ
ডেক (সাধারণ)৩০০ টাকা৩৫০ টাকা৫০ টাকা
সিঙ্গেল কেবিন১,০০০ টাকা১,২০০ টাকা২০০ টাকা
ডাবল কেবিন২,০০০ টাকা২,৪০০ টাকা৪০০ টাকা

লঞ্চ মালিকদের দাবি, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নতুন ভাড়ার হার চূড়ান্ত না হলে অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এমনিতেই যাত্রী কমেছে, এখন ভাড়া বাড়লে লঞ্চ ব্যবসা আরও মুখ থুবড়ে পড়বে।

কমেন্ট বক্স