বাংলার প্রতিচ্ছবি. প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষিখালী গ্রামে কোমলমতি শিশুদের সনাতন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ বিদ্যাপীঠ’। স্থানীয় শ্রী দেব দুলাল ঢালী ও কয়েকজন উদ্যমী তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।

উদ্যোগের নেপথ্যে লক্ষিখালী নিবাসী দেব দুলাল ঢালী এই বিদ্যাপীঠের মূল উদ্যোক্তা। সামান্য বেতনে চাকরি করে মেয়ের লেখাপড়ার ও সংসারের খরচ মিটিয়েও উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় নামযজ্ঞ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে আসছেন তিনি।
দেব দুলাল জানান, “হিন্দু সমাজের শিশুরা স্কুল-কলেজে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে না। এই শূন্যতা পূরণ করতেই গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শকে সামনে রেখে বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিই।”
গুরুচাঁদ ঠাকুরের বাণীই প্রেরণা
বিদ্যাপীঠের মূল প্রতিপাদ্য পতিতপাবন শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের অমর বাণী,
“ছেলে মেয়ে দিতে শিক্ষা, প্রয়োজন হলে করিস ভিক্ষা”।
উদ্যোক্তারা বলেন, মুক্তিবারিধি গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা আন্দোলনকে ধারণ করেই এই পথচলা। তাদের বিশ্বাস, দাসত্ব, ভীরুতা, হীনতা, দারিদ্রতা ও রুগ্নতা দূর করতে হলে নতুন প্রজন্মকে শুধু সার্টিফিকেটধারী নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তি সম্বলিত আদর্শিক ও চৈতন্যজাগ্রত জ্ঞানে শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম
বর্তমানে বিদ্যাপীঠে স্থানীয় শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ধর্মীয় বই উপহার দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
ঠিকানা
শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ বিদ্যাপীঠ
গ্রাম: লক্ষিখালী, ইউনিয়ন: জিউধরা, থানা: মোড়েলগঞ্জ, জেলা: বাগেরহাট।
স্থান: লক্ষিখালী লোকিকালী সার্বজনীন কালী মন্দির সংলগ্ন।
সহযোগিতার আহ্বান
দেব দুলাল ঢালী বলেন, “উন্নয়ন এবং বিদ্যাপীঠের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।”