
বাংলার প্রতিচ্ছবি: ইরানে নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা সম্পন্ন করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের উপর্যুপরি হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর নিশ্চিত করেছে।
যেসব এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে একযোগে অপারেশন চালায়। এর মধ্যে ইরানের বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারক, আবু মুসা এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের ইরানি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং তাদের নৌ-সক্ষমতার ওপর নিখুঁত নিশানা করতে সক্ষম আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশ ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: অভিযান শেষ হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী এই হামলার একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে। একই সাথে সেন্টকম হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পাল্টা জবাব রুখে দিতে অত্যন্ত সতর্ক, প্রাণঘাতী এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে এই অভিযানের পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে খরচের দাবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।