
বাংলার প্রতিচ্ছবি: টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, সাতটি উপজেলায় বর্তমানে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। এই দুই উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন এবং সেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে জেলায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলাওয়ারী বন্যা পরিস্থিতি:
সাতকানিয়া ও বাঁশখালী: সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং এখানে ৪ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি আছেন। বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা ও চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে বা ঘরের ছাদে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অন্যান্য উপজেলা: হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলাতেও লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে অসংখ্য ফসলি জমি ও মাছের ঘের।
ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা: চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণ না পৌঁছানোর কথা স্বীকার করেছেন। সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে না পারায় আজ শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযানে নামছে। সাতকানিয়ায় শুকনো খাবার বিতরণের জন্য ৮৯টি এবং পুরো জেলায় মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা এবং হাজার হাজার শুকনো ও রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ হিসেবে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।
যৌথ উদ্ধার অভিযান ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস: বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া সন্দ্বীপে কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য এলাকায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও সাংগু নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে যাবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন।