
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের সভায় সুপারিশকৃত ১৩ জন পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে তাকেও ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত শনিবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।
শিবেন্দ্র নারায়ণ গোপের পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল কৃষি শক্তি ও যন্ত্র। তার গবেষণার শিরোনাম— 'বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে ধানবীজ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত সংরক্ষণ প্রযুক্তি'। তিনি তার এই গবেষণায় দেশের বৃহৎ পরিসরে ধানবীজ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও টেকসই প্রযুক্তি নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
১৯৭৫ সালের ১ জুলাই টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের দড়িহাসিল গ্রামের মির্জাবাড়ী বাজার সংলগ্ন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিবেন্দ্র নারায়ণ গোপ। তার পিতা মদন মোহন গোপ ও মাতা বিথিকা রাণী গোপ। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার কনিষ্ঠ।
তিনি মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকেই এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিএডিসিতে যোগদানের পূর্বে তিনি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) এবং ইউএসএইড (USAID) পরিচালিত 'নিসর্গ প্রকল্প'সহ বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএডিসিতে যোগ দিয়ে কর্মদক্ষতা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী পদে উন্নীত হন।
বর্তমানে তিনি দেশে আধুনিক ও টেকসই সেচব্যবস্থা উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে সেচ কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, সৌরশক্তিচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তিনি কারিগরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পেশাগত প্রয়োজনে ও সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে শিবেন্দ্র নারায়ণ গোপ ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড ও অस्ट्रিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অসংখ্য সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শিবেন্দ্র নারায়ণ বিবাহিত এবং এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তার এই অসামান্য সাফল্যে মধুপুরসহ তার নিজ জেলা টাঙ্গাইলে আনন্দের বন্যা বইছে।