
বাংলার প্রতিচ্ছবি: রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হলেও অন্য পক্ষ একে ‘মৌলিক অধিকার’ ও ‘গুপ্ত রাজনীতির চাল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যেও শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ।
রাজনীতি বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ: বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে ছাত্ররাজনীতির দোহাই দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং সিট বাণিজ্যের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, কমিটি হওয়ার আগেই ক্যাম্পাসে পুরোনো সংস্কৃতির পদধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। তারা জোরপূর্বক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার চাপ ও ক্যারিয়ার নষ্টের হুমকির হাত থেকে বাঁচতে এবং ভীতিহীন পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন।
ছাত্রদলের ‘গুপ্ত রাজনীতি’র অভিযোগ: অন্যদিকে, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া আক্তার এই আন্দোলনকে ‘ছাত্রী সংস্থা’র একটি পরিকল্পিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য, আর এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী অন্যকে রাজনীতি করতে বাধা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল করার অপরাধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ‘মব’ সৃষ্টি করে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরও একে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ছাত্রশিবিরের পাল্টা বক্তব্য: এদিকে, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির পক্ষে ইডেন শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতা ও ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ ছাত্রদলের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল নিজেদের সংশোধন না করে চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে এই স্লোগান তুলছে। তিনি ছাত্রদলকে ‘শিক্ষার্থীদের দাস বানানোর প্রকল্প’ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
ইডেন কলেজের ছয়টি আবাসিক হলে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার এই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।