
বাংলার প্রতিচ্ছবি: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা কাটাতে লোহিত সাগরে বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ ও একঝাঁক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ফ্রান্স। বুধবার (৬ মে) ফরাসি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ঘিরে চলমান পাল্টাপাল্টি অবরোধ তুলে নিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে প্যারিস।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি চার সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথভাবে একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা।
ফ্রান্সের প্রস্তাব ও লক্ষ্য: ফরাসি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সমঝোতা। ইরানকে পারমাণবিক উপকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনায় বসার অঙ্গীকার করতে হবে, যার বিনিময়ে তারা হরমুজে নিজেদের জাহাজ চলাচলের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ তুলে নেয়, তবে এর বদলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এই শর্তগুলো পূরণ হলে একটি বহুজাতিক বাহিনী হরমুজে নৌচলাচলের নিরাপত্তা দেবে।
রণতরী মোতায়েনের উদ্দেশ্য: ফরাসি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘শার্ল দ্য গল’-এর সঙ্গে ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের যুদ্ধজাহাজও থাকতে পারে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অংশীদার দেশগুলোর সম্পদ একীভূত করা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে এই যুদ্ধ থেকে ইউরোপ নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলেও জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে তারা এখন সক্রিয় হতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধসের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে ইরান তাদের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।