
বাংলার প্রতিচ্ছবি: ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আবহ তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র; বরং জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা সদস্যদের ইরানের চারপাশেই মোতায়েন রাখা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অবস্থান বজায় থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি শর্ত মানতে সামান্যতম ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় আকারে সামরিক অভিযান শুরু করতে দ্বিধা করবে না।
এদিকে চলমান আলোচনা নিয়ে ইরানের অবস্থান এখনও কঠোর। তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা চলতে থাকা অবস্থায় স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত ‘অযৌক্তিক’। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও পারমাণবিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের ফারাক রয়ে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: রয়টার্স।