প্রিন্ট এর তারিখঃ Jan 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 23, 2025 ইং
চিতলমারীতে উমাজুড়ি গ্রামে এক কিশোরীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধা আলেয়া খুন

প্রতিদিনের বাংলার প্রতিচ্ছবি:
প্রিন্স মণ্ডল অলিফ (চিতলমারী, বাগেরহাট): বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উমাজুড়ি গ্রামে এক কিশোরী নাবালিকাকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আলেয়া বেগম নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। বুধবার সকাল ৯টা ৩০ থেকে ১০টার মধ্যে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উমাজুড়ি গ্রামের আছমত ভাবনার দুই ছেলে—কাওছার (৩০) ও আনছার ভাবনা (২৭)—দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন কিশোরী ও মহিলাকে উত্যক্ত করে আসছিল। নিহত আলেয়া বেগমের নাতনি এই নৈতিক হয়রানির নিয়মিত শিকার ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা
বুধবার সকালে কিশোরীটি ঘরের বাইরে পানি আনতে গেলে কাওছার তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে। তার চিৎকার শুনে ফুফু ছুটে এসে কাওছারকে বাধা দিলে সে ফুফুর গলা চেপে ধরে এবং মুখে আঘাত করে। পরবর্তীতে বৃদ্ধা আলেয়া বেগম এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করেন এবং মারামারি বন্ধ করতে অনুরোধ করেন।
কিন্তু সেই প্রতিবাদই যেন তার মৃত্যুদণ্ড ডেকে আনে। কাওছার ও তার ভাই আনছার মিলে ইট দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করে। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তদের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কাওছার ও আনছার পরিচিত মাদকসেবী এবং বখাটে হিসেবে এলাকায় কুখ্যাত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, "ওরা স্কুল ছুটির সময়েও ছাত্রীদের উত্যক্ত করে। বহুবার তাদের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ মুখ খোলেনি বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।"
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও আইনি অগ্রগতি
ঘটনার খবর পেয়ে চিতলমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওসি এস.এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন,স“নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে পরিবার অভিযোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রাম ক্ষুব্ধ ও হতবিহ্বল। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, “একজন অসহায় বৃদ্ধা কেবল ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার মূল্য দিতে হলো প্রাণ দিয়ে। যদি পূর্বেই ব্যবস্থা হতো, আজ এই মৃত্যু হতো না।”
নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এরকম অপরাধীদের রেহাই দিলে সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বেড়ে যাবে।
বিশ্লেষণ:
এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সহিংসতা নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং মাদক-সংস্কৃতির প্রতিফলন। যেখানে একজন নারী কিশোরীর সম্মান রক্ষার জন্য এগিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান, সেখানে পুরো সমাজের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ।
এটি নারীর প্রতি সহিংসতা, আইনের প্রয়োগে গাফিলতি এবং সমাজে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের একটি দুঃখজনক চিত্র। প্রশাসন এমন সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা না হলে এমন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হবে।
প্রকাশক : ফারুক শিকদার
সম্পাদক : হিল্লোল বাউলিয়া
অফিস : যোগাযোগ: ৭০১,রোড নং-১১, বাইতুল আমান হাউজিং,আদাবর, ঢাকা-১২০৭
ইমেইল : banglarproticchobi@gmail.com
মোবাইল : ০১৮২২-৯৯০৮৮৮, ০১৬৩৩-৬০৭২৫৫
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলার প্রতিচ্ছবি